Ads by tnews247.com
দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

Thu June 15, 2017     

রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

বেশি সওয়াবের জন্য রমজানে বেশি বেশি দান করা উচিত। কেননা অন্য ইবাদতে এত বেশি সওয়াব নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লা জাল্লাশানুহু বলেন, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো এবং তিনি তোমাদের যে সম্পদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করো।’ (সূরা হাদিদ)

রোজার উপবাসের মাধ্যমে গরী-দুঃখী মানুষের কষ্ট বোঝার পর তা দূর করার জন্য বাস্তব ব্যবস্থা হলো দান-সদকা করা। এ কারণে রাসূলে করিম (সা.) অন্যান্য মাসের চেয়ে রমজান মাসে বেশি বেশি দান করতেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূল (সা.) এমনিতেই সর্বাধিক দানশীল ছিলেন। কিন্তু তিনি রমজানে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রবহমান বাতাসের মতো উন্মুক্ত হস্ত ও অধিকতর দাতা হয়ে যেতেন।’ -(বোখারি)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘রমজানে দান-সদকা সর্বোত্তম।’ -(তিরমিজি)

দান-সদকা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের অর্থ-সম্পদ দান করে তাদের দানের উদাহরণ হলো একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি বিশেষ শিষ বা ছড়া জন্মায়। প্রত্যেক ছড়ায় একশ’ করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরো বেশি দান করেন। আল্লাহ অতি দানশীল ও সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাক্বারা)

রাব্বুল আলামিন আরো বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কর্জে হাসানা দাও, তাহলে আল্লাহ তা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন, আল্লাহ শোকর গুজার ও ধৈর্যশীল।’ (সূরা তাগাবুন)

এ আয়াতে দান করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। দান-সদকা দ্বারা গুনাহ মাফ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্য দান-সদকা করো, তাহলে তা কতই না উত্তম। আর যদি তা গোপনে গরীব ও অভাবীদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম। আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের আমলের বেশি খবর রাখেন।’ (সূরা বাক্বারা)

সম্পদের মালিক রাব্বুল আলামিন। তিনি মানুষকে সম্পদের প্রতিনিধি বানিয়ে তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা যেন সম্পদ আঁকড়ে ধরে না রাখি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। অন্যথায় সে বলবে, হে আমার রব, আমাকে আরো কিছকাল অবকাশ দিলেন না কেন? তাহলে আমি দান-সদকাহ করতাম এবং নেক লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সূরা মোনাফেকুন)

দান-সদকাহ করলে কারো সম্পদ কমে যায় না। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, দান-সদকাহ দ্বারা সম্পদ কমে না, বরং আল্লাহ তা আরো বাড়িয়ে দেন। বান্দা কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ তার মান-ইজ্জত বাড়িয়ে দেন এবং কেউ আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয়ী হলে, আল্লাহ তাকে বুলন্দ করেন।’ (মুসলিম)

দান-সদকা করলে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যায়। রাসূলে করিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা খেঁজুরের একটি টুকরা দান করে হলেও দোজখ থেকে বাঁচো।’ (বোখারি)। তিনি আরো বলেন, ‘দান-সদকাহ ৭০টি মন্দের দরজা বন্দ করে দেয়।’ (তাবারানি)

হযরত আমর বিন আওফ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন- ‘মুসলমানের দান-সদকা তার হায়াত বৃদ্ধি করে, খারাপ মৃত্যু প্রতিহত করে এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে তার গর্ব অহংকার দূর করেন।’ (তাবারানি)। অপর এক হাদিসে এসেছে, মোয়াজ বিন জাবাল থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাগুলো সম্পর্কে বলবো না? আমি বললাম হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ! (সা.)। তিনি বলেন, রোজা হলো ঢাল স্বরূপ। পানি যেমন আগুন নেভায়, দান-সদকা তেমনি গুনাহ নেভায়।’ (তিরমিজি)

আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি প্রশ্ন করেন, কোন দান উত্তম? রাসূল (সা.) বলেন, ‘গরীবের সামর্থ অনুযায়ী দান। তবে প্রথমে পরিবারে শুরু করো।’ (আবু দাউদ)। এ থেকে বোঝা যায় গরীবরাও দান করবে, যদিও তা সামান্যই হোক না কেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের কার কাছে নিজের মাল-সম্পদ অপেক্ষা ওয়ারিশের মাল সম্পদ অধিক প্রিয়? সাহাবারা বলেন, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কাছে আপন সম্পদ অধিকতর প্রিয় নয়। তখন রাসূল (সা.) বলেন, নিজ সম্পদ বলতে যা বোঝায় যা সে ব্যয় করেছে। আর যা রয়ে যাবে সেটাতো ওয়ারিশের সম্পদ।’ (বোখারি)

এ কথার তাৎপর্য হচ্ছে- ব্যাক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পদের মালিক হবে ওয়ারিশরা, ব্যক্তি নিজে তার মালিক নয়। অথচ মানুষ নিজের জন্য আল্লাহর পথে ব্যয় করে কম। আর সম্পদের মায়ার কারণে রেখে যায় বেশি- যা তার কোনো কাজে আসবে না। ওয়ারিশরাই বেশি উপকৃত হবে তা দ্বারা।

দান-সদকার মধ্যে উত্তম হলো সদকাহ জারিয়াহ। এই সদকাহ জারিয়াহ বলতে বোঝায় যার ফরাফল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। যেমন- মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট ও পুল তৈরি ইত্যাদি। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘এমন কোনো সকাল হয় না যেদিন দু’জন ফেরেশতা নাজিল হয় এবং একজন একথা না বলে, হে আল্লাহ অর্থ ব্যয়কারীকে বিনিময় দিন এবং অপরজন বলে, হে আল্লাহ, কৃপণের সম্পদ নষ্ট করে দিন।’ (বোখারি ও মুসলিম)

অপর এক হাদিসে আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) বলেছেন- সে দান উত্তম, যখন তুমি সুস্থ এবং সম্পদ কামনা করো ও দারিদ্রের ভয় করো। মৃত্যু ওষ্ঠাগত অবস্থা পর্যন্ত দেরি করো না; তখন যেন এরূপ বলতে না হয়, অমুকের জন্য এটা, ওমুকের জন্য ওটা।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

বস্তুতঃ দানের বহু উপকারিতা রয়েছে। এর মর্যাদা অসীম। এতে গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বাড়ে, সম্পদ বাড়ে ও বরকত হয়। দান-সদকায় হাশরের ময়দানে ছায়া হবে। দান করলে ফেরেশতারা বিনিময়ের জন্য দোয়া করে। দানের দ্বারা অভাবী মানুষ তৃপ্ত হয় এবং তারা দাতার জন্য দোয়া করে। রাব্বুল আলামিন আমাদের বেশি বেশি দান করে অশেষ মর্যাদা ও নেকি হাসিলের তাওফিক দান করুন। -আমিন।






Facebook এ আমরা

আরও খবর


দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয় রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

 

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তা

 

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রহমতুল্লিল আলামিন হজরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর নবু

 

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে মোমিনের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ রহমত স্বরূপ। রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি বান্দা যত বেশি ইবাদত করবে তত বেশি সওয়াব পাবে। তাই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেতে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত ক

 

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১৬তম রোজা পালন করবেন সোমবার। এই দিনের রোজা রাখতে সাহরি খেতে হবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮মিনিটের পূর্বে।

 

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা অনিয়ম, অসংযমী কাজ করে ফেলি। আমরা অধৈর্য হয়ে পড়ি এবং অন্যায় বা গুনাহের কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। অনেক সময় আমরা বিপদে পড়েও ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কিংবা নি

 

কুরান তেলাওয়াত


অন্যান্য

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

রমজানে ওমরা করলে হজ করার সওয়াব!

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

সম্মান দেখানোর জন্য কী বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ ?

রমজান সম্পর্কে কিছু কথা আপনি যানেন কী?

রমজানে তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

সকল জেলার প্রথম রোজার সেহরীর সময়

সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে

আদৌ পনেরো শাবানের রাত্রির কোনো ফজিলত বা বিশেষত্ব আছে কি?

প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, রয়েছে খুৎবা শোনার ব্যবস্থা

হে তরুণ যাচ্ছ কোথায়? ফিরে এসো!

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft