Ads by tnews247.com
রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

Wed June 14, 2017     

মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তাই রোজাদারকেও অন্যের প্রতি দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ দয়ালু লোকের ওপর রহমত নাজিল করেন। আল্লাহ নিজেও দয়ালু এবং মেহেরবান। তিনি বান্দাদের দয়া প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারাও যেন ধৈর্য এবং দয়ার উপদেশ দান করে। রমজান মাসে রোজাদার মুসলমান একজন অভাবির দুঃখ সরাসরি অনুভব করতে পারেন। তাই রোজাদার হবেন দয়ালু মনের। ক্ষুধা, পিপাসা ও কষ্টের দাবি হচ্ছে, অন্য মুসলিম ভাইয়ের অভাব দূর করা। কিন্তু আমাদের কারো কারো মনে এই দয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায় না। এর কারণও আছে। অতিরিক্ত গুনাহ ও নাফরমানীর কারণে অন্তরে মরিচা পড়ে। ফলে তা কঠোর বা পাষাণ হৃদয়ে পরিণত হয়। আল্লাহ ইহুদীদের পাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেছে পাথরের মতো, কিংবা এর চাইতেও বেশি।’ –(সূরা বাক্বারা) আবার অতিরিক্ত ভোগ বিলাসের কারণেও অন্তর শক্ত হয়ে যায়। সে জন্যই রমজানের আগমন, যেন মানুষের ক্ষুন্নিবৃত্তি ও ভোগবিলাসের ওপর লাগাম দিতে পারে।

রমজানে সব পর্যায়ের লোকের ওপর দয়া ও মেহেরবানীর অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পিত হয়। সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের জনগণের সঙ্গে নম্রতা ও দয়া প্রদর্শন করা উচিত। এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মার শাসনকর্তা নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের সঙ্গে কঠোর ব্যবহার করে তুমিও তার প্রতি কঠোরতা করো; আর যে শাসনকর্তা তাদের সঙ্গে নরম ব্যবহার করে তুমিও তার প্রতি নরম ব্যবকহার করো। -(মুসলিম)

রাব্বুল আলামিন অসীম ও মহান দয়ালু। তাই তাঁর বান্দা যদি দয়া প্রদর্শন করে তিনি তাতে খুশি হন। আল্লাহ হযরত মূসা (আা.) ও হারুনকে (আ.) ফেরাউনের কাছে দাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা তার সঙ্গে সদয় ব্যবহার ও নরম কথা বলবে। সম্ভবত সে হেদায়েত গ্রহণ ও আল্লাহকে ভয় করতে পারে।’ (সূরা তা-হা)

প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে দয়া ও সদয় আচরণ করা উচিত। পিতা সন্তানের সঙ্গে সদয় আচরণ করবেন। তাদের সঙ্গে কঠোর ব্যবহার করলে তার পরিণতি মন্দ হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, কোনো জিনিসের নম্রতা তাকে সুন্দর বানায় এবং নম্রতা প্রত্যাহার করা হলে তা মন্দে পরিণত হয়।’ –(মুসলিম ও আবু দাউদ)

শিক্ষক ছাত্রের সঙ্গে নরম ও ভদ্র ব্যবহার করবেন, দয়া ও মেহরবানী প্রদর্শন করবেন। পরবর্তীতে ছাত্ররাও শিক্ষক হয়ে দয়াবান হবেন। অনুরূপভাবে, নামাজে মুসল্লির প্রতি দয়াবান হবেন ইমাম। নামাজে তিনি দীর্ঘ কেরাত পড়ে তাদের কষ্ট দেবেন না। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কেউ যদি নামাজের ইমাম হও, তাহলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করবে। কেননা তাদের মধ্যে রয়েছে বয়োবৃদ্ধ লোক, রোগী, কম বয়সী ও এমন লোক যার হয়তো কোনো কাজ রয়েছে।’ (বোখারি ও মুসলিম)

একবার হযরত মোয়াজ (রা.) নামাজ দীর্ঘ করায় রাসূল (সা.) তাকে তিনবার বলেন- ‘হে মোয়াজ! তুমি কি ফেতনা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী?’ (বোখারি ও মুসলিম)

সাহাবায়ে কেরাম অভাবি ও গরীবদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করতেন। আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) কোনো ফকির মিসকিন ছাড়া ইফতার করতেন না। তিনি ইফতারের জন্য কোনো গরীব লোক না পেলে সেই রাতে না খেয়ে থাকতেন। খানা খাওয়ার সময় কোনো গরীব লোক সাহায্য প্রার্থনা করলে নিজের ভাগের খাবারটুকু তিনি দান করে দিতেন। একবার ইমাম আহমদ (র.) রোজা ছিলেন। তাঁর ইফতারের জন্য দুটি রুটি তৈরি করা হয়। সে সময় এক ভিক্ষুক আসায় দুটি রুটিই তাকে দিয়ে দেন এবং না খেয়ে রাত কাটিয়ে দেন তিনি।

মোমিন-মুসলমানদের উচিত অনুরূপ শিক্ষা গ্রহণ এবং অভাবি ও গরীব ভাইদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা। রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের তাওফিক দান করুন। -আমিন।






Facebook এ আমরা

আরও খবর


দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয় রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

 

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তা

 

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রহমতুল্লিল আলামিন হজরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর নবু

 

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে মোমিনের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ রহমত স্বরূপ। রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি বান্দা যত বেশি ইবাদত করবে তত বেশি সওয়াব পাবে। তাই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেতে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত ক

 

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১৬তম রোজা পালন করবেন সোমবার। এই দিনের রোজা রাখতে সাহরি খেতে হবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮মিনিটের পূর্বে।

 

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা অনিয়ম, অসংযমী কাজ করে ফেলি। আমরা অধৈর্য হয়ে পড়ি এবং অন্যায় বা গুনাহের কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। অনেক সময় আমরা বিপদে পড়েও ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কিংবা নি

 

কুরান তেলাওয়াত


অন্যান্য

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

রমজানে ওমরা করলে হজ করার সওয়াব!

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

সম্মান দেখানোর জন্য কী বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ ?

রমজান সম্পর্কে কিছু কথা আপনি যানেন কী?

রমজানে তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

সকল জেলার প্রথম রোজার সেহরীর সময়

সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে

আদৌ পনেরো শাবানের রাত্রির কোনো ফজিলত বা বিশেষত্ব আছে কি?

প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, রয়েছে খুৎবা শোনার ব্যবস্থা

হে তরুণ যাচ্ছ কোথায়? ফিরে এসো!

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft