Ads by tnews247.com
তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

Sat June 10, 2017     

রমজান মাস হচ্ছে তওবা ও এস্তেগফারের মাস। এ মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। গুনাহগার বান্দা তওবার মাধ্যমে নাফরমানী থেকে পুনরায় আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। বান্দা যতই গুনাহ করুক না কেন রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করেন। বান্দার গুনাহ যত বড় তাঁর রহমত এর চাইতেও বড়। তাই নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এই মাস তওবার জন্য মহামূল্যবান। হাদিসে কুদসিতে এসেছে- ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আমার বান্দা তোমরা দিনে রাতে গুনাহ করে থাকো, আর আমি সব গুনাহ মাফ করি। তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমোদের গুনাহ মাফ করে দেব।’ (মুসলিম)

বান্দার গুনাহ মাফের জন্য এর চাইতে বড় প্রতিশ্রুত আর কি হতে পারে? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এরশাদ করেছেন- ‘হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরোশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। নিঃসন্দেহে তিনিঅধিক ক্ষমাশীল ও মেহরবান। -(সূরা জুমার-৫৩)

রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন- আল্লাহ দিনে গুনাহকারীদের গুনাহ মাফ করার জন্য রাতে নিজ ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন এবং রাতে গুনাহকারীদের গুনাহ মাফ করার জন্য দিনে নিজ ক্ষমার হাত সম্প্রসারিত করেন। কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকবে।’

এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ গুনাহ মাফের জন্য রীতিমত অপেক্ষা করেন। বান্দা মাফ চাইলেই পেতে পারে। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, -সেই ব্যক্তির নাক ধূলামলিন হোক, যে রমজান পেয়েছে কিন্তু তার গুনাহ মাফ হয়নি।’ –(তিরমিজি)

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে- রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘হে বনি আদম! তুমি আমার কাছে যা আশা করো এবং চাও, আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম এবং এ জন্য আমি কোনো পরোয়া করি না।’ –(তিরমিজি)

পবিত্র কোরআনে রাব্বুল আলামিন আরো বলেন, -তিনি সেই সত্তা যিনি বান্দার তওবা কবুল করেন, তাদের গুনাহ মাফ করেন এবং তোমরা যা কিছু করো সবকিছু তিনি জানেন।’ –(সূরা শূরা-৩৫)

এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবা কবুল করেন। তবে তওবা করার কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। তওবা করতে হবে এখলাসের সঙ্গে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আর সেই গুনাহর পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। এ সম্পর্কে রাব্বল আলামিন বলেন, ‘যারা অশ্লীল কাজ করে ফেললো কিংবা নিজেদের আত্মার ওপর জুলুম করলো, নিজেদের গুনাহর জন্য আল্লাহর স্মরণ করলো; আল্লাহ ছাড়া আর কে আছে যিনি গুনাহ মাফ করেন এবং তারা জেনে-শুনে কৃত গুনাহর পুনরাবৃত্তি করে না। তাদের পুরস্কার হলো, আল্লাহর ক্ষমা এবং এমন জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত- তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। আমলকারীদের পুরস্কার কতই না উত্তম! ( সূরা আল ইমরান- ১৩৫-১৩৬)

রাব্বুল আলামিনের ক্ষমা পেতে তওবা করার জন্য বান্দা তার কৃত গুনাহকে স্মরণ করে সে গুনাহর জন্য লজ্জিত হবে। এরপর তওবা করে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে। পুনরায় সেই গুনাহ না করার ওয়াদা করতে হবে। সকল পর্যায়ে পূর্ণ এখলাস ওআন্তরিকতা থাকতে হবে। আর ওয়াদার ওপর টিকে থাকার জন্য আল্লাহর সাহার্য প্রার্থনা করতে হবে।

রমজান মাস আসলে দেখা যায়, অনেকে ভাল মানুষ হয়ে যান, নেক কাজে ব্যস্ত ও গুনাহর কাজ থেকে দূরে থাকেন। প্রতিদিন রীতিমত জামাতে নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, তারাবি পড়েন, কোরআন পাঠ করেন, দান-সদকা করেন, ঘুষ, মিথ্যা এবং গালি-গালাজ বা মন্দ কথা, কিংবা নিন্দা-অপবাদ থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু রমজান চলে গেলে তার আবার গুনাহর কাজ করেন। তাহলে, তওবা ও ক্ষমার দাবি পূরণ হলো কিভাবে? বান্দা যদি ফের আল্লাহর নাফরমানী ও গুনাহর কাজে লিপ্ত হন তা হলে, ক্ষমা, রহমত ও মাগেফিরাত কিভাবে লাভ করবেন? তাই তওবার ওপর টিকে থাকা জরুরি।

রাসূল (সা.) বলেন, বান্দা যখন তওবা করে আল্লাহ তার ওপর বেশি খুশি হন। আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল (সা.) বর্ণনা করেন, ‘যদি কোনো বান্দা গুনাহ করে এসে বলে, হে আল্লাহ আমার গুনাহ মাফ করুন। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা গুনাহ করেছে, সে জেনেছে যে তার একজন প্রতিপালক আছে যিনি গুনাহ মাফ করেন। তারপর সে আবার গুনাহ করেছে এবং বলেছে হে আল্লাহ আমার গুনাহ মাফ করুন। আল্লাহ জবাবে বলেন, আমার বান্দা গুনাহ করেছে, সে জেনেছে যে তার একজন রব আছে যিনি গুনাহ মাফ করেন। আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন।’ (মুসলিম)

অপর এক হাদিসে এসেছে, রাসূলে করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি দিনে আল্লাহর কাছে ৭০ বারের অধিক তওবা-এস্তেগফার করি।’ (বোখারি)

সুতরাং যেখানে নিষ্পাপ রাসূল (সা.) দিনে ৭০ বারের বেশি তওবা করেন সেখানে আমাদের মত পাপী-তাপিদের কমপক্ষে ৭০ এবং আরো বেশি তওবা করা উচিত। রাব্বুল আলামিন আমাদের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার এবং তওবা–এস্তেগফার করে রমজান মাসে গুনাহ তেকে মুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন্ –আমিন।







Facebook এ আমরা

আরও খবর


দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন ১৯.

 

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয় রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

 

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তা

 

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রহমতুল্লিল আলামিন হজরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর নবু

 

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে মোমিনের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ রহমত স্বরূপ। রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি বান্দা যত বেশি ইবাদত করবে তত বেশি সওয়াব পাবে। তাই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেতে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত ক

 

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১৬তম রোজা পালন করবেন সোমবার। এই দিনের রোজা রাখতে সাহরি খেতে হবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮মিনিটের পূর্বে।

 

কুরান তেলাওয়াত


অন্যান্য

দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

রমজানে ওমরা করলে হজ করার সওয়াব!

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

সম্মান দেখানোর জন্য কী বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ ?

রমজান সম্পর্কে কিছু কথা আপনি যানেন কী?

রমজানে তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

সকল জেলার প্রথম রোজার সেহরীর সময়

সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে

আদৌ পনেরো শাবানের রাত্রির কোনো ফজিলত বা বিশেষত্ব আছে কি?

প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, রয়েছে খুৎবা শোনার ব্যবস্থা

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft