Ads by tnews247.com
স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

Tue May 30, 2017     

ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত পাঁচটি স্তম্ভের ওপর। এগুলো হচ্ছে- ঈমান অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এক বলে স্বীকার করা, নামাজ কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা ও হজ্জ পালন করা। সুতরাং রমজানের পূর্ণ মাস রোজা রাখা ফরয। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর (রমজানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।’ –(সূরা বাক্বারা, ১৮৩) শরীয়ত সম্মত ওজর ছাড়া রোজা পরিত্যাগ করা উচিত নয়। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি রোজাও বাদ দেয় তা হলে সে ফরজ লংঘনকারী এবং ঈমান ও ইসলামের ভিত্তি বিনষ্টকারীরূপে পরিগনিত হবে। রোজা পরিত্যাগের ফলে সে এর যে বরকত ও মঙ্গল তা থেকে বঞ্চিত হবে। এমনকি এ রোজার কাযা করেলেও তা ফিরে পাবে না। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ব্যতিরেকে রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে সে যদি ঐ রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে তবুও ঐ এক রোজার ক্ষতি পূরণ হবে না।’ -(তিরমিযি, ৭২৩) রোজা এমন একটি ইবাদত যা বাহ্যত কষ্টকর হলেও তার প্রচলন ছিল সর্বকালে। হযরত আদম আ.-এর যুগ থেকে শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সব নবীর উম্মতের ওপরই তা ফরজ ছিল। -(রূহুল মাআনি, ২/৫৬) অবশ্য রমজানের ৩০ রোজা ফরজ হওয়ার আগে রোজার ধরন ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। রোজা রাখার পদ্ধতির ভিন্নতা ছাড়াও ফরজ রোজার সংখ্যাও বিভিন্ন রকম ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় উম্মতে মোহাম্মদীর ওপরও কেবলমাত্র আশুরার রোজা ফরয ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা ফরজ হওয়ার হুকুম রহিত হয়ে যায়। -(মাআরিফুস সুনান, ৫/৩২৩) প্রসঙ্গত, রোজা ফরজ হয় মহানবীর (সা.) হিজরতের দেড় বছর পর, ১০ শাবানে। রোজা ফরজ হওয়ার পর রাসুলে কারীম (সা.) রমজান পেয়েছিলেন মোট নয়টি। রোজাদারের ইবাদত রাব্বুল আলামিনের কাছে অধিক পছন্দের। তাই রোজা পালনকারীকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়। আমাদেরকে স্রষ্টার নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন করে ইবাদত করতে হবে। অবশ্য শুধু রোজাদার নয়, প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হল আল্লাহ যা কিছু আদেশ করেছেন তা পালন করা। আর যা কিছু করতে তিনি নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা। এর নামই হলো ইসলাম বা স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

একজন মুসলিম যেমন কখনো নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে পারে না তেমনি অন্য মানুষের খেয়াল-খুশি বা তাদের রচিত বিধানের অনুগত হতে পারে না। যদি হয় তবে তা স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করা হল না। যদি এমনভাবে জীবনকে পরিচালিত করা যায় তবে তাকেই বলা হবে পরিপূর্ণ ইসলাম। আর পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করতে মানুষকে আদেশ করেছেন রাব্বুল আলামিন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন : ‘হে মোমিনগণ ! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ -(সূরা বাক্বারা, ২০৮)

আর ইসলামকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করার নামই হচ্ছে তাকওয়া। যে তাকওয়া অবলম্বন করতে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বার বার নির্দেশ দিয়েছেন। এ তাকওয়ার দাবি হল আল্লাহর আনুগত্য করা হবে, অবাধ্য হওয়া যাবে না, তাকে স্মরণ করা হবে ভুলে যাওয়া চলবে না। ঈমানদারের সবচেয়ে বড় কর্তব্য হল, শিরক ও রিয়া মুক্ত থেকে খালেস নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদত সম্পাদন করা।

প্রত্যেক ইবাদতের ফজিলত, বরকত ও ফলাফল তখনই যথাযথভাবে পাওয়া যাবে যখন তা যাবতীয় আদবের প্রতি যত্নবান হয়ে আদায় করা হবে। রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিকভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।– আমিন।






Facebook এ আমরা

আরও খবর


দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয় রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

 

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তা

 

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রহমতুল্লিল আলামিন হজরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর নবু

 

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে মোমিনের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ রহমত স্বরূপ। রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি বান্দা যত বেশি ইবাদত করবে তত বেশি সওয়াব পাবে। তাই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেতে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত ক

 

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১৬তম রোজা পালন করবেন সোমবার। এই দিনের রোজা রাখতে সাহরি খেতে হবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮মিনিটের পূর্বে।

 

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা অনিয়ম, অসংযমী কাজ করে ফেলি। আমরা অধৈর্য হয়ে পড়ি এবং অন্যায় বা গুনাহের কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। অনেক সময় আমরা বিপদে পড়েও ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কিংবা নি

 

কুরান তেলাওয়াত


অন্যান্য

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

রমজানে ওমরা করলে হজ করার সওয়াব!

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

সম্মান দেখানোর জন্য কী বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ ?

রমজান সম্পর্কে কিছু কথা আপনি যানেন কী?

রমজানে তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

সকল জেলার প্রথম রোজার সেহরীর সময়

সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে

আদৌ পনেরো শাবানের রাত্রির কোনো ফজিলত বা বিশেষত্ব আছে কি?

প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, রয়েছে খুৎবা শোনার ব্যবস্থা

হে তরুণ যাচ্ছ কোথায়? ফিরে এসো!

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft