Ads by tnews247.com
ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

Wed August 13, 2014     

ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

ইবোলা। নামটি খুব কোমল এবং সুন্দর। ভবাই যায়না এর বাস্তব চেহারাটি এত ভয়ংকর হতে পারে। ভাববার কথাও নয়। এটি আসলে আফ্রিকার একটি শান্ত নদীর নাম। কিন্তু এই নদীতে বাসকরে একটি ক্ষুদ্র জীবাণু যেটি ১৯৭৬ সাল থেকে মানুষের জন্যে ভয়ংকর প্রমাণিত হয়ে আসছে। মানুষ জীবানুটির জন্মস্থানের সাথে মিল রেখেই এর নাম দিয়েছে ইবোলা। ধারনা করা হয় জীবাণুটি প্রথমে গেরিলা, বানর ,শিপ্পাঞ্জি ও এই ধরনের প্রাণীকে সংক্রমনিত করে। এর পর এটি প্রাণী থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা ৯০% নিশ্চিত। কারন রোগটি নিরাময়ের জন্যে কোনো ঔষধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। রোগিকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখা ও তত্তাবধানে রাখাই তখন মূল বিষয়। আফ্রিকার ইতহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে ৩১৮ জন আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ২৮০ জন। ঠিক একই সময়ে সুদানে আক্রান্ত হয় ২৮৪ জন এবং মারা যায় ১৫১ জন। এর পরে কম বেশি লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও মহামারী আকারে ধরা পড়ে ১৯৯৫ সালে তখন ৩১৫ জন আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ২৫৪ জনই মারা যায়। ২০০০ সালে উগান্ডায় আক্রান্ত হয় ৪২৫ জন কিন্তু সেবার মৃতের সংখ্যা ছিল ২২৪ জন। ২০০৩ এ কঙ্গোতে আক্রান্ত ১৪৩ জনের ১২৮ জনই মারা যায়। এবং সর্বশেষ ২০০৭ সালে এটি মহামারী আকারে কঙ্গোতে ফিরে আসে এবং ২৬৪ জনের মধ্যে ১৮৭ জন মারা যায়। এর পর বহু সময় পেরিয়ে মহামারী আকারে ২০১৪ সালে ইবোলা আবার অট্টহাসি হাসছে। মারা যাচ্ছে শত শত মানুষ। রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিশ্বে খুব দ্রুত। সুদূর আফ্রিকা থেকে এটি পৌছে গেছে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতেও। এই রোগটি এখন আমাদের জন্যে জাতীয় শংকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু এই রোগটি আমাদের প্রতিবেশী দেশে পৌছে গেছে সেহেতু আমাদের দেশ এখন আর নিরাপদ নয়। জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের যে সমস্ত সামরিক বাহিনীর সদস্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সমূহে অবস্থান করছে তাদেরকে জরুরী নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাবধান থাকবার জন্যে এবং দেশে ফিরবার সময় তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপারটিও নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু তাতেই কি বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছে কিংবা তাতেই কি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব আসলে এখানে সরকারের চেয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সচেতনার উপর নির্ভর করছে। প্রতিটি মানুষের সহযোগীতাতেই সরকারের পক্ষে এই ভয়াবহ রোগটির মুকাবেলা করা সম্ভব।

বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ। কিন্তু জনসংখ্যা অনুসারে এই দেশে যে পরিমান রোগী বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা হতে পারে বলে ধারনা করা যাচ্ছে, তাদের চিকিতসা সেবা প্রদানের জন্যে সরকার যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি? না নিয়ে থাকলে এখনই তার ব্যবস্থা নিতে হবে।কারন পরে সময় আর নাও পাওয়া যেতে পারে।সাধারনভাবেই বাংলাদেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে সিট পাওয়া যায় না। তাই সরকারের উচিত হবে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সিটের ব্যবস্থা আগেই করে রাখা যাতে রোগীরা আশা হত না হয়ে পড়ে এবং অব্যবস্থাপনার কারনে রোগটি বাংলাদেশে মহামারী আকারে ছড়িয়ে না যায়। এবারে রোগটি সম্পর্কে কিছ্য ধারনা নেয়া যাক। যেমন সাধারণত ইবোলা ভাইরাস দেহের তরল পদার্থের মাধ্যমে সংক্রমণ হয় এবং ছড়ায়।

এটি বাতাসে নয়, দেহের তরল পদার্থ রক্ত, লালা ইত্যাদির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সরাসরি শারীরিক সংযোগের মাধ্যমে ঘটে থাকে সংক্রমণ৷ যেমন ভাইরাসে আক্রান্ত কারো সেবা করলে। সুতরাং এক্ষেত্রে হাস্পাতালে অন্যান্য রোগী এবং রোগীর সাথে আসা পরিজনদেরকেও এ রোগের ব্যাপারে জানাতে হবে এবং সামাজিক সচেতনা তৈরি করতে হবে। যাতে করে হাসপাতালগুলিতে এর বিস্তৃতি না ঘটে। আবার, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ স্পর্শ করলেও জীবাণুটির সংক্রমণ হতে পারে। ভাইরাসরা বাহকের প্রতিটি সেলেই বিস্তৃত হতে পারে। ‘ইবোলা ভাইরাস ডিজিস’, যার প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া জ্বরের মতো, তা নিরাময়ের কোনো পন্থা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত নেই। সুতরাং এই প্রাণঘাতী ভাইরাস ব্যাধির খবর বৈশ্বিক গুরুত্বই বহন করে। এটি যে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে একটি পরিবার এবং একটি দেশের জন্যে এটা প্রতিটি জনগণকে বোঝাতে হবে।এবং সেই জন্যে নিয়মিত রেডিও টেলিভিশন এবং গ্ণ মাধ্যমগুলোতে তথ্যমূলক চিত্র সম্প্রচার করা জরুরি যাতে মানুষ রোগের ব্যাপে জানতে পারে এবং সাবধান হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইবোলা ছড়িয়ে পড়াকে বিশ্বব্যাপী জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করে যে যথাযথ গুরুত্বটি তুলে ধরেছে সেটি মাথায় রেখে আমাদের সামনে এগুতে হবে এই রোগটিকে প্রতিরোধ করবার জন্যে।

এই রোগে আক্রান্ত হলে কি ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় এবং এটি উপশমের উপায় কি কি ব্যবস্থা নিলে রোগীকে ভাল রাখা যায় এগুলোর প্রাথমিক ধারনা ও শিক্ষা দিতে হবে গ্রামের ও শহরের মানুষকে যাতে রোগটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে না পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি দুই থেকে একুশ দিনের মধ্যে দুর্বল হতে থাকে৷ মাথাব্যথা, পেশিব্যথা ও কাঁপুনি দেখা দেয়। রুচি নষ্ট হয়ে যায়। বমি ও পেটখারাপ হয়৷ পেটের শিরায় টান খায়। এক ধরনের জ্বর হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হয়। বিশেষ করে পেট ও অন্ত্রের নালী এবং প্লীহা ও ফুসফুস আক্রান্ত হয়৷ যা ভুক্তভোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় ।সুতরাং এই ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে কোথায় কিভাবে কার সরণাপন্ন হতে হবে সেটিরও সঠিক ধারনা মানুষকে দিয়ে রাখতে হবে যাতে মানুষ সামান্য ভুলের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।


সব শেষে ,যেহেতু এই ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা বের হয়নি বের হয়নি ওষুধ বা থেরাপি তাই ইবোলার সংক্রমণ ও মহামারির হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র উপায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া৷ হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। কাজ করতে হবে গ্লাভস পরে। আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ বাঁচিয়ে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে যে রোগটি সেরে উঠবার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্তও রোগের জীবাণু রোগীর শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে।তাই সাবধান থাকতে হবে। নিজের শরীরের উপরোক্ত কোনো ব্যপারেই অবহেলা করা চলবে না। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সাবধানতাই এখন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের জন্যে অপেক্ষমান।


Meharub Moon 
Chief editor 
tnews247.com 






Facebook এ আমরা

আরও খবর


ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

 

কেন বিয়ে নয়...!

 

এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

 

পিনাক -৬ যে যান করে পরপারে পার...

 

অনলাইনে ব্যবসা

 

আদম আলী মানুষ ছিলো

 

অন্যান্য

ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

কেন বিয়ে নয়...!

এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

পিনাক -৬

অনলাইনে ব্যবসা

আদম আলী মানুষ ছিলো

কি পেয়েছি কি দিলাম...

তাজবিহীন তাজ......

৫ই জানুয়ারী

তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইবনা কেন

মিত্র বলতে কি বুঝি...

চোরের চেয়ে বড় চোরের বোঝা...

পাভেল গাজী ,পাভেল দাস...

আমরা বাঁচতে চাই...

পুলিশ তুমি কার...?

কবে আসবে শুভ দিন

পিলখানা হত্যা মামলার রায়

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft