Ads by tnews247.com
কেন বিয়ে নয়...!

কেন বিয়ে নয়...!

Thu August 7, 2014     

তসলিমা নাসরিন বিয়ে প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি লেখাতে শেষ মন্তব্য করেছিলেন "পৃ্থিবীতে একটি যুগ ছিল,সে যুগের নাম অন্ধকার যুগ। সেই যুগে একটি প্রথা দীর্ঘদিন টিকে ছিল, প্রথাটির নাম বিয়ে।"

নিজের মনের ভেতর ডুব দিয়ে একজন বাংলাদেশী নারী হিসেবে নিজের ভাবনাগুলোকে খুঁজে নেই প্রথমেই,  তসলিমা নাসরিন এর কথাগুলো শুনলে যে প্রশ্নটি মাথায় আসে সেটি হল আমরা কোথায় আছি। কোন যুগে আছি। আইয়েমে জাহেলিয়াত নামে একটা যুগ ছিল যার বর্ণনা আমাদের প্রায় সবারই জানা। হতে পারে পৃথিবী তার দিন বদলের সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলে নিয়েছে, মানুষও অনেক কিছু ভুলে গেছে কিংবা অনেক কিছুকেই মনে রেখেছে। কিন্তু কিছু ব্যপার আছে মনে রাখবার কিংবা ভুলে যাবার নয়। সে বিষয়গুলো নিতান্তই মানুষের স্বভাবগত,বহি:প্রকাশের ভাষা। পরিবেশ ও পরিস্থিতিভেদে সেই ভাষা বা প্রকাশ ভঙ্গিটি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আইয়েমে জাহিলিয়াত বা অন্ধকারের যুগে যে সমস্ত ব্যভিচার অব্যাহত ছিল সেই যুগ কাগজে কলমে আর না থাকলেও অন্যায়, অত্যাচার বা ব্যভিচার যে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে তেমন কিন্তু নয়। যতদিন মানুষ বেঁচে থাকবে অর্থাৎ যতদিন পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব থাকবে মানুষের সহজাত এই সব অপরাধ প্রবনতা বোধকরি একেবারে থামিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। তাই বলে আমরা পৃথিবীর তাবৎ সময়কেই অন্ধকারময় বলতে পারি না। আধুনিক যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমরা বাস করি সেখানে রাষ্ট্র স্বিকৃতি দিয়ে কোনো নারীকে মা,কাউকে লেখক,কাউকে সম্পাদক,কাউকে রাষ্ট্রপ্রধান করেছে।এবং এদের প্রত্যেকের পিতৃপরিচয় না থাকুক মাতৃপরিচয় অবশ্যই আছে।


গুহাবাসী মানুষেরা হয়তো বিয়ে কি জিনিস জানত না। যৌনতা অনুভব করলে হয়তো তারা ঝাপিয়ে পড়ত কোনো নারীর উপর। এভাবেই তখন হয়তো প্রজনন হত। সে সময়ও সঙ্গী বদল হয়েছে। ভালবাসা বা বিশ্বাস যে তখন ছিলনা এমন নয়। ব্যপারটা আসলে ছিল প্রকাশ ভঙ্গির। আদিকাল থেকেই পুরুষ তার প্রকাশ ভঙ্গিকে আগ্রাসী রেখেছে শক্তিমান রেখেছে। কারন, নারীর চেয়ে তুলনামূলক ভাবে সে আসলে তাইই। মানুষ সমাজ তৈরি করে, আইন তৈরি করে। সহজ করে যদি বলি তাহলে ব্যপারটা হল অনেকটা এই রকম- একজন মানুষ জানে তার নিজস্ব দূর্বলতা, তার ভাললাগা কিংবা ভয়ভীতি। তাই সে নিজেকে আয়ত্বে রাখবার জন্যে এবং নিজের মত বাকী সবাইকে আয়ত্বে রেখে, আয়ত্বে বা নিয়ন্ত্রনে আছে ভেবে স্বস্থি বোধ করতে সামাজিক নানান রীতি বা আইন প্রনয়ন করে। ধর্মের বেলায়ও এই একই যুক্তি দেয়া যেতে পারে। বিয়ে হচ্ছে সেই রীতি বা আইনগুলোর মধ্যে একটি । এটি শুরুর পেছনেও মূলত একই কারন বিদ্যমান। এটি একটি সামাজিক প্রথা-মানব মানবীর জন্য-যারা সমাজে বাস করেন,সন্তান নেন এবং তাদের লালন পালন করেন।তসলিমা নাসরিন বহুদিন মার্কিন মুল্লুকে ছিলেন,অনেক মুক্ত চিন্তার সাথে যুক্ত পরিচিত হয়েছেন আশা করি।উনি একটু হাওয়ার্ড জিন পড়লেই জানতে পারতেন, প্রাচীন ইন্ডিয়ান সমাজে একটি নারী কতটা সম্মান পেতেন-স্বামী সঙ্গী ছেড়ে দিতে তার,স্বামী বা সঙ্গীর কাপড়চোপড় আর জুতো ঘরের বাইরে রেখে দিলেই চলত।

 এক এক সমাজে এক এক ধর্মে বিয়ের এক এক নিয়ম। কোথাও মেয়েপক্ষকে পন/ যৌতুক দিতে হয় কোথাও আবার ছেলে পক্ষকে। কোথাও ছেলেরা কাজ করে স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেয় কোথাও আবার মেয়েরা । আমাদের দেশের সাঁওতাল মেয়েরাই এর বড় উদাহারণ। কিন্তু গৃহকর্তী হয়ে যায় বলেই কি সাঁওতাল সেই মেয়েরা পুরুষের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হয়ে যায়? যায় না। এর পেছনেও কারন একটাই- প্রকাশ ভঙ্গি। তার মানে এই নয় যে আচানক প্রকাশ ভঙ্গি পাল্টে ফেললেই মেয়েরা শক্তিশালী হয়ে যাবে। স্বভাবগত ভাবেই মেয়েদের প্রকাশ ভঙ্গি আগ্রাসী নয় বা ক্ষমতা প্রয়োগপরায়ন নয়। তাদের প্রকাশ অনেক কোমল ও সুস্থির।সেই জন্যেই অনেক শক্তিমান যুদ্ধবাজ মহারাজা কিংবা উগ্রপন্থি জঙ্গী তার স্ত্রীর কাছে অবনত।এর পেছনে কি কেবলি শরীর? কিংবা মন? না। এর কোনোটাই আসলে নয়। এখানেও আসছে মানুষের নিজেকে আয়ত্বে রাখবার প্রয়াসের পরোক্ষ একটা ব্যাপার। মানুষ কোনো কোনো দিক থেকে পরাধীন থাকতে ভালবাসে, শাসনে থাকতে ভালবাসে। বিয়ে বেপারটা সেই ভালবাসার কথা স্মরণ রেখেই মানুষ করে। শোষন বা যাতনা সহ্য করে নয়। এখানে যদি আমরা কার শক্তি বেশি কার শক্তি কম কে বেশি সুবিধা পেল কে সারাজীবন ঠকল এসব চিন্তা করতে বসে যাই তাহলে কোনো দিনও বিয়ে জিনিসটির সুফল ভোগ করতে পারব না।কোনো গাছ থেকে ফল পেতে হলে, তার শুশ্রূষা করাটা আগে জরুরী। বিয়ে করে সন্তান জন্ম দেয়ার সময় নারীর উপর নানা নির্যাতন করে যে সব পুরুষ; যেমন সন্তানের জন্যে চাপ দেয়া, ছেলে সন্তানের জন্যে স্ত্রীকে তালাক দেয়া, কন্যা সন্তানের ভ্রুন নষ্ট করা, হলেও পুঁতে ফেলা সন্তানের জন্যে একাধিক বিয়ে করা -সেই সব পুরুষের সামনে বিয়ে না করে নারীকে ভোগ করবার খতিয়ান তুলে ধরা মাত্রই তারা নানান অপকর্মের কথা কল্পনা করতে আরম্ভ করবে। নকশা আঁকতে আরম্ভ করবে।কারন তাদের প্রকাশটাই অন্যরকম। অসুস্থ চিন্তার কেবল যে পুরুষ আছে তাও কিন্তু নয়। অনেক সংসার নারীর কারনেও ভেঙ্গে যায়। অনেক পুরুষও তার স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন। এখানে বিয়ে না করলে তিনি যে নির্যাতিত হতেন না তেমন নয়। বহুগামিতা একটি রোগ। এটি প্রয়োজন মনে করে কিছু মানুষ এর বৈধতা দিতে চায়, নিজের পঙ্কিলতা ঢাকতে চায়। সে বোঝাতে চায় সে অভাবগ্রস্ত বা অসহায়, যে কারনে সে আরেকজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।  সে তখন নিজের ভেতরের অভাব গুলো খুঁজতে, আর এই অভাব পূরণ করতে সঙ্গীর পরিবর্তন করে। এসব ক্ষেত্রে মানুষ মানবিক গুণ বিচারেরর ক্ষমতা হারায়।এভারেস্টে চড়লে ব্যক্তি নামটি যেভাবে ছড়ায় এভাবে সঙ্গী বদল করায়ও তার রোগটি সেভাবে ছড়িয়ে যায়। বিয়ে নামের বন্ধনে সে আবদ্ধ ছিল বলেই হয়তো সে রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে, ফিরে আসতে পারে স্বাভাবিক জীবনে।

বিয়েকে অনেকে কুসংস্কার বলে আখ্যা দেন। কিন্তু আসলেই কি বিয়ে কুসংস্কার? বিয়ে একটি সম্পর্কের দালিলিক প্রমান। এটির যাদের প্রয়োজন নেই তারা নিবন্ধিত নাও হতে পারেন। কিন্তু আমাদের মত যে সব দেশ, যেখানে পরিবার আছে, সম্পত্তি ভাগাভাগির আইন আছে সেখানে বিয়ে জিনিসটি নেহায়েত মূল্যহীন নয়। এখন যদি বলি যে বিয়ে না থাকলেই এসব এর দরকার ছিল না তাহলে বেপারটা হবে মাথা ব্যথা আছে জেনে মাথা কেটে ফেলার মত। সম্পর্ককে তাজা রাখতে অনেক দেশে সঙ্গী এনে কয়েকজন একসাথে মিলিত হন এমন উদাহারণও অনেককে দিতে এবং আফসোফ করতে দেখা যায়। আসলে বেপারটা অতোটা জটিল নয় ।এই সব উগ্র সম্পর্কের অনেককেই দেখা যায় পরিবার কি বন্ধন কি এটা একবার টের পেলে আর নিজেদের দেশে নিজেদের অসভ্য সভ্যতায় ফিরে যেতে চান না। এই দেশে ওলন্দাজ, ফরাসী, তুরস্ক ও আরো নানান জাতের লোক এখনো পাওয়া যাবে যারা এই দেশে বিয়ে করে সংসারের মায়ায় আবদ্ধ হয়ে থেকে গেছে। নিজের দেশে ফিরে যায়নি। এর পেছনেও কিন্তু ছিল প্রকাশ ভঙ্গি। এক মাত্র প্রকাশ ভঙ্গিই যে কোনো সম্পর্ককে তাজা রাখতে সক্ষম। এর জন্যে প্রয়োজন ধৈর্য ও শালীনতা। আর স্বার্থহীনতা। আমার আমার আর তোমার তোমার করতে জানলে কিচ্ছু হাসিল হয়না হয় কেবল হাঙ্গামা আর ফ্যাসাদ।আগ্রাসী হলেই কিন্তু সত্যিটা পাল্টানো  যায় না।

এবারে যুক্তিতে আসা যাক। বিয়ে কেবল মাত্র নিজেদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই করা হয়।যেটা কাগজে কলমে রেজিস্ট্রি করা থাকে।এর সাথে জড়িয়ে থাকে অনেক আইন অনেক প্রতিবন্ধকতা। বিশ্বাস আর ভালবাসাই যে বন্ধনের মুলমন্ত্র সেখানে এই কাগজের দরকার নেই বলে অনেকে ধারনা করেন। তারা মনে করেন যে বিয়ে না করেই সংসার করা যায় অনায়াসে।সন্তান লালন পালন করা যায়। অন্য যে কোনো দেশের মানুষের মত, অন্য যে কোনো প্রানীর মত। বেপারটা বলা যতটা সহজ করা আসলে ততটা নয় । আর সহজ নয় বলেই বিয়ে টিকে আছে টিকিয়ে রেখেছে মানুষ । বিয়ে মানুষকে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়। নিজের স্ত্রীকে নিজের বলে দাবী করবার বেপারটাও এখানে জড়িত।  একটি সুন্দরী বউকে যে কেউ তার নিজের বলে দাবী করতে পারে। এ ক্ষেত্রে যে জটিলতা হতে পারে সেটি থেকে রেহাই দেয় বিয়ে। একজন কর্মক্ষম পুরুষ, সফল পুরুষ ও হতে পারে এরকমের চক্রান্তের স্বিকার। সেক্ষেত্রেও বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন নারী যদি শিক্ষিতা হন তাহলেও তাকে নিয়ে অহেতুক ঝামেলা হতে পারে যদি বিয়ে না করে জীবন কাটানোর রীতিটি চালু হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চেয়ে বিয়ে প্রথা চালু না থাকলে স্বেচ্ছাচারীতা বেড়ে যাবে বেশি। তখন এক শ্রেণীর লোভী, ও কুটিল মনের মানুষেরা নানা ফায়দার কথা ভাববে। এতে সমাজে বিশৃংখলতা বাড়বে। মোদ্দা কথা একটি সমাজ এবং একটি রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাবে তার প্রত্যেকটি নাগরিকের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রনহীনতার কারনে। সেই জন্যেই বলছি বিয়ে বিষয়টির মানে ও গভীরতা আগে বুঝতে হবে নইলে একদিন মায়ান জাতীর মেধা আর বুদ্ধির তারিফ করার মত আফসোস নিয়ে বলতে হবে ''পৃথিবীতে এক সময় মানুষ সত্যিকারের মানুষ ছিল, তখন ছিল সোনালী দিন... তখন ছেলে মেয়েরা বাবাকে বাবা আর মা কে মা বলে ডাকতো... কারন, তখন বিয়ে নামের প্রথাটি বহুদিন টিকে ছিল...''

 

Meharub Moon 
Chief editor 
tnews247.com 






Facebook এ আমরা

আরও খবর


ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

 

কেন বিয়ে নয়...!

 

এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

 

পিনাক -৬ যে যান করে পরপারে পার...

 

অনলাইনে ব্যবসা

 

আদম আলী মানুষ ছিলো

 

অন্যান্য

ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

কেন বিয়ে নয়...!

এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

পিনাক -৬

অনলাইনে ব্যবসা

আদম আলী মানুষ ছিলো

কি পেয়েছি কি দিলাম...

তাজবিহীন তাজ......

৫ই জানুয়ারী

তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইবনা কেন

মিত্র বলতে কি বুঝি...

চোরের চেয়ে বড় চোরের বোঝা...

পাভেল গাজী ,পাভেল দাস...

আমরা বাঁচতে চাই...

পুলিশ তুমি কার...?

কবে আসবে শুভ দিন

পিলখানা হত্যা মামলার রায়

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft