Ads by tnews247.com
এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

Wed August 6, 2014     

একুশ শতকের আশির্বাদ হয়ে ইন্টারনেট ঢালাওভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে । আর সেই সাথে ঘুরে যায় অনেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর ভাগ্যের চাঁকা। সে কথায় পরে আসা যাবে আগে সাধারণ মানুষের কথায় আসা যাক। এক সময় মানুষের বিনোদন ছিল রেডিও। সে রেডিও বা বেতারযন্ত্রের বহু বিবর্তনের পর মানুষের মতি ও অবস্থা পাল্টে বিনোদনের খোরাক যোগাতে জায়গা করে নেয় টেলিভিশন। সময় না থাকলেও মানুষ টেলিভিশনের সামনে বসবার জন্যে ঠিকই সময় করে নিত। টেলিভিশনে একটা নাটক কিংবা সিনেমা দেখবার জন্যে মানুষ গ্রাম বা পাড়া বদল করে অনেক দুরের পথ পাড়ি দিত সে ইতিহাসও রয়েছে।

বিবর্তনের ধারাবাহিকরায় ও বিজ্ঞাণের উন্নয়নের অগ্রগতির কল্যাণে আমরা এক সময় হাতে পেলাম কম্পিউটার। মানুষের জন্যে একটি টাইম মেশিন হয়ে আসা এই ইন্টারনেট দুনিয়ার আর কাকে কি দিয়েছে জানি না, কিন্তু আমাদেরকে সে আর সব কিছুর সাথে দিয়েছে একটি কট্টর ধোকা। সে কেড়ে নিয়েছে আমাদের ভাবনা, আমাদের সময় সেই সাথে আমাদের মনস্তাত্তিক ব্যপ্তি। যদি বলি শিশুদের কথা তাহলে যে ভয়ংকর ছবিটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেটা হল ভিডিও গেমস। অধিকাংশ গেমস এর ডিভিডি আছে যেখানে গোলাগুলি করে, চুরি চামারি করে সামনে এগুতে হয়... এসব সিডি বা ডিভিডি শেষ করে ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটে বড় বড় মাফিয়া গেমস খেলে। মাঠের ব্যপ্তি না থাকলেই যে কম্পিউটারে বসে গুন্ডাগিরি করার খেলা খেলতে হবে এমন কিন্তু নয়। ওই যে আগেই বলেছি একুশ শতকে ঢালাও ভাবে প্রবেশ করা এই ইন্টারনেটের কল্যাণে ঘুরে যায় অনেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর ভাগ্যের চাঁকা... এক্ষেত্রে এটি একটি উদাহারণ। অনেক বুদ্ধিজীবীই আছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বার নাম করে ইন্টারনেটের কল্যাণে সফটওয়্যার এমনকি ল্যাপটপ বিক্রি করে ফেরেন। অথচ শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে তাদের ভাবনা নেই। অনেকে বিক্রি করেন চটকদার খবর,চটি বই কিংবা ড্রাগস। আইন না জানা এবং আইন না মানা লোকের সংখ্যা অগনিত বলে এরা চিরকাল পার পেয়ে যান। যাই হোক। এগুলো এমন রোগ যার ওষুধ আছে। ইন্টারনেটে এমন জীবানুও আছে যার মরণ ব্যতীত কোনো শেষ নেই বা বিনাশ নেই। পরের সেই রোগটির নাম হচ্ছে ফেইসবুকিং। বিজ্ঞাণের দুটি ডানা আছে। একটি হচ্ছে কল্যাণের ডানা, আরেকটি হচ্ছে অকল্যানের ডানা । আমরা প্রায়শই ও ভুল করে ভুল ডানায় চেপে বসি। ঊড়তে আরম্ভ করলে আমাদের আর নামবার সামর্থ কাজ করে না। এই যেমন ফেইসবুক।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এমন কেউ মনে হয় বাকী নেই বাংলাদেশে যার ফেইসবুক আইডি নেই। ফেইসবুক এক্টিভিস্টরা এর সুফল পাচ্ছেন যেমন তেমন কুফল ও পাচ্ছেন। এক দল এক্টিভিস্ট আছেন যারা যা নন তাই প্রকাশ করতে ভালবাসেন। ধরুন, ফেইসবুক নামের পরিচিতি পত্রে  আপনি আপনার পরিচয়কে রঙ্গিন ও ঝলমলে করতে দু-চারটি মিথ্যে বাড়িয়ে বললেন। এতে আপনার হয়তো স্যাটিস্ফেকশান আসতে পারে কিন্তু প্রতারিত হতে পারে অন্য যে কেউ। অনেককেই দেখা যায় সুন্দরী কোনো মেয়ের ছবি দিয়ে ফেইসবুক আইডি খুলে ছেলেদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাক্ষ লাক্ষ টাকা ও মূল্যবান জিনিস। এক্ষেত্রে মান সম্মানের ভয়ে এবং বোকামী ফাঁস হয়ে যাবার চিন্তায় ক্ষতিগ্রস্তকে ব্যাপারগুলো চেপে যেতে হয় । অনেকে বাড়িয়ে লিখে বা সত্যি গোপন করে নিজের দুর্বলতা ঢাকতে চায় বা নিজের প্রফাইলকে ঝলমলে করতে চায়।কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্য আরেক জন। তার মিথ্যা পরিচয়ে পরিচিত হয়ে অনেকেই মোহে পড়ে তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়ে মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তের পথে পা বাড়ায়। অনেক নারী এক্টিভিস্টকেউ দেখা যায় নিজের নয় এমন ছবি ব্যবহার করতে। এতে স্বাভাবিক ভাবেই অনেক ছেলে ফাঁদে পড়ে।অনেকেই আবার প্রতিশোধ নিতে কোনো মেয়েকে ভিক্টিমাইজড করে তার কিছু গোপন ছবি দিয়ে ফেইক প্রোফাইল খুলে বসে। এভাবে সর্বশান্ত হয় অনেক নিরীহ মেয়ের জীবন। ফেইসবুক যে কেবল ক্ষতিই করে তা নয়। ফেইসবুকে এমন অনেক গ্রুপ আছে যারা সামাজিক উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত।অনেক ব্লগ আছে যেখানে অনেক মান সম্মত লেখা পাওয়া যায়। বাংলাদেশের অনেক বিল্পবী আন্দোলনের সূত্রপাতও হয় ইন্টারনেট ও ফেইসবুকের মাধ্যমে।ব্লগার অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবী নিয়ে আন্দোলণ যা পরে গণজাগরন মঞ্চে রুপ নেয় সেটিও এই রকম একটি ইতিবাচক আন্দোলণ।

 

ফেইসবুকে খুঁজে পাওয়া যায় হারানো মানুষ, হারানো দিন। কিন্তু ওই যে বললাম... বিজ্ঞাণের দুটি ডানার কথা। মানুষের সহজাত ধর্মই যে নিষিদ্ধতার বৈধতা দাবী করা। ফেইসবুকের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম হয় না। আমাদের যদি একটি সামাজিক সংস্থা থাকতো কিংবা থাকতো কোনো সরকারী উদ্যোগ, গ্রামে বা মফস্বল শহরের স্কুল কলেজে গিয়ে ফেইসবুকের কল্যাণময় দিক গুলো নিয়ে সেমিনার করার তাহলে একটা দিক নির্দেশনার মধে দিয়ে ফেইসবুক এক্টিভিস্টরা নিজেদেরকে সাজাতে পারতেন। এতো গেলো ব্যক্তিগত প্রফাইলের কথা। এর চেয়ে মারাত্মক হচ্ছে, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলতা ছড়াতে কিছু লোক বা দল অমূলক ছবি, অবান্তর সংবাদ ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়। যার কোনো সত্যতা থাকে না। ফটোশপ দিয়ে নানান ছবি জোড়া তালি লাগিয়ে তৈরি করে সাজানো হয় এমন সব ঘটনা যেটা কিনা ভিত্তিহীন। এসব সংবাদ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং উত্তেজিত করে। এতে  তৈরি হয় সহিংসতা। সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্লগার রাজীব হত্যা একটি বড় নজির।

ফেইসবুক এক্টিভিস্টদের কেবল একটি কথা মনে রাখবার জন্যে অনুরোধ জানাবো-শুধু ফেইসবুকেই এক্টিভিস্ট হলে হবে না জীবনেও একজন প্রকৃত এক্টিভিস্ট হতে হবে।প্রকৃত কর্মীরা বরাবরই নীরবে কাজ করে যায় এবং করে যাচ্ছে। সে অরুন্ধতি রায় থেকে জুলিয়ান এসেনজ পর্যন্ত প্রমান আছে।তাই এমন ভাবে নিজেকে  তৈরি করুন যাতে আপনাকে সবাই মনে রাখে, আপনার মুখ যেন হয় একটি জীবন্ত গ্রন্থ; আর ফেইসবুক আপনাকে সেই সুযোগটাই করে দিয়েছে... ডানা বেছে ডানায় চেপে বসুন, আশা করছি আপনি পৌছে যাবেন সাফল্যের দেশে...নতুবা আপনার তথ্য বিভ্রাটটি ছড়াতে পারে এবং তাতে প্রকৃত কাজের মন্দ বই ভাল হবে না।

সাধু সাবধান।

Meharub Moon 
Chief editor
tnews247.com 






Facebook এ আমরা

আরও খবর


ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

 

কেন বিয়ে নয়...!

 

এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

 

পিনাক -৬ যে যান করে পরপারে পার...

 

অনলাইনে ব্যবসা

 

আদম আলী মানুষ ছিলো

 

অন্যান্য

ইবোলা ভাইরাসঃ আমাদের করনীয়

কেন বিয়ে নয়...!

এক্টিভিস্ট- ইন্টারনেটে ফেইসবুকে !

পিনাক -৬

অনলাইনে ব্যবসা

আদম আলী মানুষ ছিলো

কি পেয়েছি কি দিলাম...

তাজবিহীন তাজ......

৫ই জানুয়ারী

তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইবনা কেন

মিত্র বলতে কি বুঝি...

চোরের চেয়ে বড় চোরের বোঝা...

পাভেল গাজী ,পাভেল দাস...

আমরা বাঁচতে চাই...

পুলিশ তুমি কার...?

কবে আসবে শুভ দিন

পিলখানা হত্যা মামলার রায়

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft