Ads by tnews247.com
কেমন ছিলেন অপহৃত হওয়া মুজিব

কেমন ছিলেন অপহৃত হওয়া মুজিব

Wed August 20, 2014     

৩ মাস নিখোঁজ থাকার পর অপহরণকারীদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছেন প্রবাসী বি এন পি নেতা মুজিবর রহমান মুজিব। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে গতকাল দেশের একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন প্রবাসী এ নেতা। তিনি জানিয়েছেন কিভাবে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে। কি জানতে চাওয়া হয়েছে। অপহরণকারীদের বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর সোমবার সকালে তাকে গাজীপুর এলাকায় ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এরপরই তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপহরণের দিন হঠাৎ পোশাক পরে তৈরি হতে বলা হয় তাকে।ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুজিব বলেন, 'ভেবেছিলাম আর হয়তো বাঁচবো না। কোথাও নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হবে। এমনটি মনে করে কালেমা পড়ে তৈরি হই। চোখ বাঁধা অবস্থায় হাতের বাঁধন খুলে যখন ছেড়ে দেয় তখনও মনে হয়েছিল আর বুঝি বাঁচবো না। কিন্তু কিছু সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বুঝতে পারি আমি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছি। আমি জীবন ফিরে পেয়েছি।' কথাগুলো বলছিলেন সাড়ে তিন মাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়া বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান।

অপহরণ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, গত ৪ঠা মে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট যাওয়ার পথে টুকেরবাজারে পুলিশ তার গাড়ি থামায়। সড়কে তখন পুলিশের দু’টি গাড়ি। পাঁচজন পুলিশ সদস্য ছিলেন রাস্তায়। পুলিশ চালকের লাইসেন্স দেখতে চায়। লাইসেন্স ভুয়া দাবি করে গাড়িচালক রেজাউল হক সোহেলকে পুলিশ নিয়ে যায়। মুজিবের কাছে তার গাড়ির কাগজ খোঁজে পুলিশ। গাড়ির কাগজ সিলেট নগরীর বাসায় আছে জানালে পুলিশ তাকে বলে, আপনাকে গাড়িসহ থানায় নিয়ে যাবো। পরে বাসা থেকে কেউ কাগজ নিয়ে গেলে পুলিশ ড্রাইভার দিয়ে গাড়িসহ তাকে বাসায় পৌঁছে দেবে। এসব কথা বলেই দু’জন পুলিশ তার গাড়িতে ওঠে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে এ ঘটনা। গাড়ির পেছনে বসা ছিলেন মুজিব। পুলিশের একজন ড্রাইভিং সিটে অন্যজন ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে। গাড়িতে উঠেই পাশের জন বলেন, গন্ধ লাগছে। এয়ার ফ্রেশনার দাও। অন্য পুলিশ সদস্য পেছনের দিকে মুজিবকে লক্ষ্য করে কিছু একটা সেপ্র করেন। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে যান। তিনি বলেন, কর্মসূচি শেষে ফেরায় ঘুম ঘুম ভাব ছিল তাই পুলিশের সঙ্গে কোন তর্কে জড়াননি তিনি।

মুজিব বলেন, অপহৃত হওয়ার পর যখন জ্ঞান ফিরে তখন তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন হাতে হ্যান্ডকাফ, পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায়। মেঝেতে পড়ে আছেন। টের পান পুরো শরীরে ব্যথা। শব্দ করে জানতে চান তার অবস্থান। সঙ্গে সঙ্গে পাশে থেকে ধমকের সুরে বলা হয়, শাটআপ বাস্টার্ড, উই উইল কিল ইউ...! চিৎকার করবি না- বলেই মুজিবকে সজোরে লাথি মারে একজন। কখন দিন কখন রাত তা টের পাওয়া ছিল দুস্কর। তবে জ্ঞান ফেরার প্রায় আট ঘণ্টা পর তিনি ফজরের আজান শুনেছেন। ওই সময়ে তাকে খাওয়ার জন্য কলা রুটি দেয়া হয়। সেখানে একাধিকবার পানি খাওয়ার পর অচেতন হয়েছেন তিনি। তার ধারণা পানির মধ্যে ওষুধ মিশিয়ে দেয়া হতো। বন্দি থাকা অবস্থায় তিন বার স্থান পরিবর্তন করা হয়। প্রথমবার ২০ থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালিয়ে নতুন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থান পরিবর্তনের সময় তাকে কাঁধে করে গাড়িতে তোলা হতো। স্থান পরিবর্তন হচ্ছে- এইটুকু টের পেয়েছেন।
সর্বশেষ মুক্ত হওয়ার পাঁচ-সাত দিন আগে স্থান পরিবর্তন করা হয়।  প্রথম দিকে ভাত খেতে না পারলেও পরে ভাত খেতেন মুজিব। আলু ও বেগুন ভর্তা এবং গরু ও খাসির মাংস খেতে দেয়া হতো তাকে। খাওয়ার সময়ও তার চোখ বাঁধা থাকতো। হ্যান্ডকাফ হাতে নিয়েই খেতে হতো। অপহরণকারীদের একজন প্লেট মুখের কাছে তুলে ধরতো। বন্দি অবস্থায় ১০ থেকে ১২ দিন পর পর গোসল করানো হতো তাকে। রমজানে তাকে যেখানে রাখা হয় সেখানে সেহরির সময় মসজিদের মাইক থেকে ঘুম ভাঙানোর জন্য ডাকা হতো। একাধিক মসজিদের আজানের শব্দ কানে আসতো। প্রায়ই রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাইকের আওয়াজ পেতেন তিনি। ঘুমানোর জন্য ফ্লোরে একটি বালিশ দেয়া হতো তাকে। অপহরণের পর তার মোবাইলফোন, ঘড়ি ও মানিব্যাগ আর খুঁজে পাননি তিনি। মুজিবের পাহারায় সবসময় অপহরণকারী দলের চার-পাঁচ জন থাকতো।

অপহরণের পর মারধর করা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপহরণের প্রথম দিকে বেশি মারধর করা হয়েছে তাকে। জ্ঞান ফিরলেই লাঠি দিয়ে প্রহার করে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতো। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী বিএনপি নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে তারা তথ্য চাইতো। যুক্তরাজ্য থেকে কি পরিকল্পনা হচ্ছে- এ সম্পর্কে জানতে চাইতো। মুজিব তখন তাদের বলেছেন, তারা সিনিয়র নেতা। আমি তাদের সম্পর্কে কিছু জানি না। তখন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতো তারা। শরীরে বিভিন্ন স্থানে, হাড়ের জোড়ায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতো। লাঠির আঘাতে কালো হয়ে গেছে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান। এছাড়া বিভিন্ন কাগজ এনে এতে সই নিয়েছে তারা। তাকে ছেড়ে দেয়ার কিছুদিন পূর্ব থেকে টাকা দাবি করতো অপহরণকারীরা। কখনও ১০ কখনও ১২ কখনওবা ১৫ কোটি টাকা ছিল তাদের দাবি। মুজিব বলতেন, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি টাকা দেবো। না ছাড়লে টাকা দেবো কি করে। তবে মুজিবের কাছে মনে হয়েছে টাকার দাবিটা জোরালো ছিল না। তিনি বলেন, টয়লেট এবং গোসল করার সময়ও চোখের বাঁধন খোলা হতো না। এ অবস্থায় অপহরণকারী যে কোন একজনকে ধরে বাথরুমে যেতেন তিনি। তার হাতের ছোঁয়ায় মনে হয়েছে অপহরণকারীদের চুল খুব ছোট করে ছাঁটা। তারা লম্বা ও সুঠাম দেহের অধিকারী। তারা সব সময় ইংরেজি ও শুদ্ধ বাংলা ভাষায় কথা বলতো। তারা নিজেদের কাউকে স্যার বলে সম্বোধন করতো।

ফিরে আসার দিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত সোমবার সকালে আন্ডারওয়ার পরতে বলা হয়। পোশাক পরতে বলা হয়। মুজিব জানান, তখন মনে হয়েছে আজ মেরে ফেলা হবে। হয়তো ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তার মুখে তখন ট্যাপ লাগানো হয়। চোখ বাঁধা অবস্থাতেই তাকে বোরকা পরানো হয়। অপহরণকারীরা তাকে সিঁড়ি দিয়ে হাঁটিয়ে নামায়। পরে গাড়িতে তুলে প্রায় এক ঘণ্টা ঘুরে গাজীপুর এলাকায় ফেলে রেখে যায়। মুজিব মনে করেন ইচ্ছা করেই তাকে ভুল ধারণা দেয়ার জন্য গাড়িতে করে এক ঘণ্টা ঘোরানোর পর ছেড়ে দেয়া হয়। ছেড়ে দেয়ার সময় শুধু হাত থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে নিয়ে যায় তারা। তাৎক্ষণিকভাবে চোখ খুলে পাশেই তার গাড়িচালক সোহেলকে দেখতে পান একই অবস্থায়। দু’জনে বোরকা খুলে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে টঙ্গীতে পৌঁছান। সেখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে গুলশানের বাসায় যান মুজিবুর রহমান মুজিব। পথিমধ্যে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারের সামনে নেমে যান গাড়িচালক সোহেল। এ সময় সোহেলকে এক হাজার টাকা দেন মুজিব। তবে অপহৃত অবস্থায় চালকের সঙ্গে দেখা হয়নি তার। ছাড়া পাওয়ার পর প্যান্টের পকেটে ৫৫০০ টাকা পান তিনি। অপহরণকারীরাই তাকে ছেড়ে দেয়ার আগে এই টাকা দেয়। উদ্ধারের পর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মুজিবুর রহমান মুজিবকে। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনও দুর্বল, তার শরীরে রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। অপহরণকারীরা নির্যাতন করায় তার শরীরে, হাতে-পায়ে দাগ রয়েছে।

এতো কিছুর পরে নিজের জীবন ফিরে পেয়ে আনন্দিত মুজিব।যেখানে ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা ছিল না সেখানে অনেকটা ভালোভাবেই ফিরে আস্তে পেরেছেন তিনি।তবে ভয় যেন এখনো তাড়া করে ফিরছে তাকে।







Facebook এ আমরা

আরও খবর


বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হতে পারলে সচিবালয়ের ন্যায় উচ্চমান সহকারীও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে পারবে রবিবার বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ শিক্ষা ভবন ঢাকায় সংগঠনের আওতাধীন সরকারী বিভিন্ন দপ্তর অধিদপ্তরে কর্মরত প্রধান সহকারী/উচ্চমান সহকারী/সহকারীসহ সমপদ ও উক্ত পদের ফিডার পদধারীদে

 

দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। আগামী ৯ জুলাই চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

‘অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিক দ্বারা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত’ ‘অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিকদের দ্বারা নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ।’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্র

 

দেশে ২৫ লাখ ৮৭ হাজার বেকার ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখ ৮৭ হাজার জন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জ

 

সিলেট ও চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

 

সংসদে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিল উত্থাপন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৭ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গম গবেষণা কেন্দ্রকে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করার প্রয়োজনীয় বিধানের প্রস্তাব করে কৃষিমন্ত্রী ব

 

অন্যান্য

বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হতে পারলে সচিবালয়ের ন্যায় উচ্চমান সহকারীও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে পারবে

দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত

‘অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিক দ্বারা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত’

দেশে ২৫ লাখ ৮৭ হাজার বেকার

সিলেট ও চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

সংসদে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিল উত্থাপন

পুলিশে ৭৫ হাজার ৩০৬টি নতুন পদ সৃষ্টি

আজ রাত থেকে ১৮ ঘণ্টা সিম বিক্রি বন্ধ

‘ফিটনেসবিহীন নৌযান চলবে না’

বিক্রির আগেই টিকিট শেষ লঞ্চের

সুইডেন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

এসি টিকিট যেন সোনার হরিণ

দেশের ভাবমূর্তিবিরোধী কিছু করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

ঈদে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে আট সুপারিশ

ঈদের আগে-পরে পাঁচ দিন বাল্কহেড কার্গো চলাচল বন্ধ

পাহাড় ধসে প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের শোক

সাত দিনের মধ্যে ভোগান্তি নিরসনের নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর

বিআইডব্লিউটিসির অগ্রিম টিকিট ২২ জুন থেকে

জবাবদিহির জন্যই কর্মসম্পাদন চুক্তি: পাটমন্ত্রী

ফের ভারি বর্ষণ ও ভূমিধসের শঙ্কা

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft