Ads by tnews247.com
মূলধন জোগাতে ৮ বছরে ১৪৬৫৫ কোটি টাকা

মূলধন জোগাতে ৮ বছরে ১৪৬৫৫ কোটি টাকা

Sat June 10, 2017     

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে লোকসান থেকে উদ্ধারের জন্য মূলধন ঘাটতি পূরণের নামে গত আট অর্থবছরে ১৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত চার আর্থিক বছরেই দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী অর্থবছরেও এ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরেও রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, অর্থ যোগানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক ও সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ব এই দুটি ব্যাংকই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এক অর্থবছরে সর্বাধিক ৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে এসব সরকারি ব্যাংককে। এই টাকার পুরোটাই দেওয়া হয়েছে জনগণের করের টাকা থেকে।

প্রতি অর্থবছর রিক্যাপিটালাইজেশন বা পুনঃমূলধন যোগানের আওতায় এই ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে অর্থ যোগান দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঋণের অর্থ এসব ব্যাংক থেকে ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি বাজেট ডকুমেন্ট ও অর্থ বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে পুনঃমূলধন খাতে ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তার পরের অর্থবছর ২০১০-২০১১ অর্থবছরে দেওয়া হয় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। একইভাবে ২০১১-২০১২ অর্থবছরে দেওয়া হয় ৭০০ কোটি টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থবছর ৪২০ কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর ২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর ২ হাজার কোটি টাকা, এবং আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত চার অর্থবছরে শুধুমাত্র সোনালী ও বেসিক ব্যাংককে পুনঃমূলধন খাত থেকে দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংক এ খাত থেকে পেয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা এবং ৭১০ কোটি টাকা। হলমার্ক কেলেঙ্কারির কারণে সোনালী ব্যাংকের খোয়া গেছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। যার একটি কানাকড়িও আদায় করা সম্ভব হয়নি।

একইভাবে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত বেসিক ব্যাংককে ২০১৪-২০১৫ এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে পুনঃমূলধন খাতে দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯০ কোটি এবং ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংক থেকে লুট হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই ব্যাংককেও বাঁচানোর জন্য জনগণের করের টাকা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতিবছর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে শুধুমাত্র বেসিক ব্যাংকেই মূলধন ঘাটতি বাবদ যোগান দেওয়া হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে দেওয়া হয় ১৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা। আর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে যোগান দেওয়া হয় ৫৫ কোটি টাকা।

একইভাবে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বেসিক ব্যাংক পায় ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংককে দেওয়া হয় ৭১০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ২৫০ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে যোগান দেওয়া হয় ৭৫ কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংক পায় ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৮১৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৮১ কোটি, রূপালী ব্যাংক ২১০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ১৭৫ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে মূলধন বাবদ যোগান দেওয়া হয় ৮০ কোটি টাকা।

২০১২-২০১৩ অর্থবছরে মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের কাছ থেকে সোনালী ব্যাংক পায় ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের জন্য দেওয়া হয় ১০৮ কোটি টাকা। আর ২০১১-১২ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংককে দেওয়া হয় ৮৩ কোটি এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জন্য ছাড় করা হয় ১০৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে প্রাক্তন অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেছেন, পুনঃমূলধন খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা সরকারের উচিত নয়। কারণ, অতীতে এ খাত থেকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে অর্থ দেওয়া হলেও এই ব্যাংকগুলোতে গুণগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই অর্থ দেওয়া পুরোটাই অপচয়ের সামিল।

এর প্রমাণ পাওয়া যায়, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ব ৮ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের কারণে মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক ব্যাংক ছিল। কিন্তু এরপর যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেওয়া হয় তখন থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে। চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে যায় অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র ফুটে ওঠেছে।







Facebook এ আমরা

আরও খবর


নতুন আইনে ভ্যাটের হার ১২ শতাংশ দাবি নতুন আইনে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।বুধবার বিকেল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্চে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বা

 

মে পর্যন্ত বস্ত্রখাত আয় ২৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেছেন, ‘এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থবছরে মে ২০১৭ পর্যন্ত বস্ত্রখাত থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ২৬.৪৬ বিলিয়ন

 

‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের আতঙ্কের কারণ নেই’ আপন জুয়েলার্সের সোনা আটকের ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

 

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমছে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার আগামী মাস থেকে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সে অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রে সুদের হার দেড় থেকে দুই শতাংশ কমানো হতে পারে।

 

‘কৃষকরা ধানের দাম বেশিই পেয়েছে’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, দেশে হৈ চৈ হচ্ছে মোটা চালের দাম বেশি কেন-এই নিয়ে। বলা হচ্ছে খাদ্য সংকটের কথা । কিন্তু কোথায় খাদ্য সংকট। কৃষকরা এবার ধানের দাম একটু বেশিই পেয়েছে

 

আপটায় সাড়ে ১০ হাজার পণ্যে শুল্ক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (আপটা) আওতায় ছয়টি দেশের বাজারে প্রবেশে পণ্যের শুল্ক সুবিধা বাড়ছে বাংলাদেশের। বর্তমানে ৪ হাজার ৬৪৮টি পণ্যে শুল্ক সুবিধা পেলেও আপটার দ্বিতীয় সংশোধনীর আওতায় বাংলা

 

অন্যান্য

নতুন আইনে ভ্যাটের হার ১২ শতাংশ দাবি

মে পর্যন্ত বস্ত্রখাত আয় ২৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার

‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের আতঙ্কের কারণ নেই’

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমছে

‘কৃষকরা ধানের দাম বেশিই পেয়েছে’

আপটায় সাড়ে ১০ হাজার পণ্যে শুল্ক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

১০০ ও ৫০০ টাকার নতুন নোট ইস্যু

জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাংকের বিজ্ঞাপন

এক বছরে চার গুণ বেড়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লেনদেন

এফডিআই বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ

সোমবার ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল

মূলধন জোগাতে ৮ বছরে ১৪৬৫৫ কোটি টাকা

সবজির দাম ৬ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে

ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

‘সোনালী ব্যাংকের ২০টি শাখার অবস্থা নাজুক’

রেলের ‍উন্নয়নে সাড়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকার ৫৩ প্রকল্প

মাস ও বছরের হিসাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে

ঈদ বোনাস ও বেতন-ভাতা ২০ জুন

বাজারে এসেছে ৫ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট

রমজানে জাল নোট প্রতিরোধে তৎপরতার নির্দেশ

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft